ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী কালীকৃষ্ণ গ্রামের মানুষের বাঁচার বিষম লড়াই
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ফুরিয়ে আসছে খাবার। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জালে আটকে জীবন-মৃত্যুর লড়াই ত্রিপুরায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, একফালি জমিতে প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস। আবার সেখানেই চাষবাস। মাথা গোঁজার জন্য একচিলতে ঘর। ওপারে বাংলাদেশ, এপারে ভারত। করোনা সংক্রমণের জেরে দু’পাড়ের প্রবেশ পথও বন্ধ। লকডাউনে মজুত খাবার ফুরিয়ে এসেছে।
শিশু থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার চোখের জল ও আর্তনাদ। এই চিত্র ত্রিপুরার সমান্তবর্তী কালীকৃষ্ণ গ্রামের। ১৫০ মিটার দূরে অবস্থিত জিরো লাইন। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেল, ১৯৭১ সালে ইন্দিরা-মুজিবের সীমান্ত চুক্তিতে ওই ভূখণ্ড ভারতের মধ্যে আসে। তখন থেকেই কাঁটাতারে ঘেরা। ১৫ বছর আগে সেখানে বসতি গড়ে উঠেছে। এখন জনসংখ্যা বেড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি। এখানকার মানুষের জীবিকা দিনমজুরি। বেড়া ডিঙিয়ে ওপারে চলে যাওয়া।
দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর ওই মানুষগুলোর জীবনচিত্র বদলে গেল। এখন বেঁচে থাকার জন্য বিষম লড়াই। ভারতের মূল ভূখণ্ডে ফেরার সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বিএসএফ। ওরা বুঝতে পারছে না কোন পক্ষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাবে। এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতির কথা পৌঁছে গিয়েছে ত্রিপুরার সিপাইজলা প্রশাসনের কাছেও।
সোনামুড়ার মহকুমাশাসক সুব্রত মজুমদার জানিয়েছেন, লকডাউন হলেও ওদের জীবনধারণের সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ওইসব মানুষগুলোর থাকার জন্য একটি সরকারি ভবনের ব্যবস্থা করা হয়। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ছেড়ে ওরা আসতে চায়নি বলেও খবর।

